পাসপোর্ট কী?
জাতীয় পরিচয়পত্র হলো এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা ডকুমেন্ট যা আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মের জন্য প্রযোজ্য হয়। এটি আমাদেরকে সরকারি অফিস বা সেবা প্রদানকারী স্থানে প্রমাণ করতে সাহায্য করে। অতএব, পাসপোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্ভুক্ত নথি, যা আন্তর্জাতিক কাজকর্মের সময় প্রযোজ্য হয়। যেহেতু এটি আমাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তির ন্যায়, তাই এটি অন্তর্ভুক্ত বিশেষ চিহ্নিতকরণের তথ্য যেমন বাহকের নাম, জন্মের তারিখ এবং স্থান, ছবি, স্বাক্ষর ইত্যাদি ধারণ করে। এই তথ্য দ্বারা আমরা সহজেই ব্যক্তিবর্গ সনাক্তকরণ করতে পারি। সাম্প্রতিক সময়ে, হাতে লেখা পাসপোর্ট একরকম জালিয়াতির সম্মুখীন হতে পারত, তাই বাংলাদেশ এ ২০২০ সাল থেকে আধুনিক E-Passport প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের পাসপোর্ট অভ্যন্তরীণ বিশ্ব মান এবং নিরাপত্তার স্তরে এনেছি।
ই-পাসপোর্টের সুবিধা
নিরাপত্তা চিহ্ন হিসেবে ই-পাসপোর্টে থাকবে চোখের মণির ছবি ও আঙুলের ছাপ। আর এর পাতায় থাকা চিপসে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। এই সিকিউরিটি ব্যবস্থার কারণে পরিচয় গোপন করা বা জালিয়াতি সম্ভব হবে না।
ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পেরিয়ে যাওয়া ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি লাইনে না দাঁড়িয়েই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারবেন।
ই-পাসপোর্টের জন্য বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে ই-গেট স্থাপন করা হবে।
ই-পাসপোর্টের মেয়াদ
বর্তমানে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ফি জমা দিতে হয় তিন হাজার ৪৫০ টাকা এবং জরুরি পাসপোর্টের জন্য দিতে হয় ছয় হাজার ৯০০ টাকা। মেয়াদ পাঁচ বছর। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ বয়সভেদে পাঁচ ও দশ বছর করার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে। জানা গেছে, ১৮ বছরের নিচে ও ৫৫ বছরের বেশি বয়সীদের পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট এবং ১৯ থেকে ৫৫ বছর বয়সীদের জন্য ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট দেওয়া হবে।
ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে?
ই পাসপোর্ট আবেদন করতে হলে আগে জানতে হবে যে, ই পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে।
- অনলাইনে আবেদনের সারসংক্ষেপ বা সামারি
- আবেদনের কপি
- জাতীয় পরিচয়পত্র / অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ
- ঠিকানার প্রমাণপত্র / ইউটিলিটি বিলের কপি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- পূর্ববর্তী পাসপোর্টের ফটোকপি ও অরিজিনাল পাসপোর্ট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- পিতামাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি (শিশুদের ক্ষেত্রে আবশ্যিক)
- পেশাগত সনদের ফটোকপি বা চাকরির আইডি কার্ড (পেশাজীবির ক্ষেত্রে- যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, হিসাবরক্ষক, আইনজীবি)
- নাগরিক সনদ/ চেয়ারম্যান সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
ই-পাসপোর্ট ফি নিম্নোক্ত উপায়ে প্রদান করা যাবেঃ
১। অনলাইন (ekpay-এর মাধ্যমে): (Payment option: VISA, Master Card, American Express, bKash, Nagad, Rocket, Upay, Dmoney, OK Wallet, Bank Asia, Brack Bank, EBL, City Bank, UCB, AB Bank, DBBL, Midland Bank, MBL Rainbow)
অনলাইন ই-চালান পেমেন্ট স্লিপ চেক এবং ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন অথবা এখানে ক্লিক করুন এখানে ক্লিক করুন
২। অফলাইন: এ-চালানের মাধ্যমে দেশের সকল সরকারি অথবা বেসরকারি ব্যাংক থেকে পরিশোধ করা যাবে (ঘরে বসে নিজে অফলাইনে পেমেন্ট করতে ক্লিক করুন )।
অফলাইন এ-চালান পেমেন্ট স্লিপ চেক এবং ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন
বি:দ্র:
নিয়মিত বিতরণ: বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ হতে ১৫ কর্মদিবস /২১ দিনের মধ্যে।
জরুরী বিতরণ: বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ হতে ৭ কর্মদিবস / ১০ দিনের মধ্যে।
অতীব জরুরী বিতরণ: বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ হতে ২ কর্মদিবসের মধ্যে।
সরকারি চাকরিজীবি যাদের এনওসি(NOC) /অবসর সনদ (PRL) রয়েছে তারা নিয়মিত ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে জরুরী সুবিধা/ জরুরী ফি জমা দেওয়া সাপেক্ষে অতীব জরুরী সুবিধা পাবেন।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আবেদনের ক্ষেত্রে (১৫% ভ্যাট সহ):
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ৪,০২৫ টাকা
- জরুরী বিতরণ: ৬,৩২৫ টাকা
- অতীব জরুরী বিতরণ: ৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ৫,৭৫০ টাকা
- জরুরী বিতরণ: ৮,০৫০ টাকা
- অতীব জরুরী বিতরণ: ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ৬,৩২৫ টাকা
- জরুরী বিতরণ: ৮,৬২৫ টাকা
- অতীব জরুরী বিতরণ: ১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ৮,০৫০ টাকা
- জরুরী বিতরণ: ১০,৩৫০ টাকা
- অতীব জরুরী বিতরণ: ১৩,৮০০ টাকা
বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে (সাধারণ আবেদনকারী) :
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ১০০ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ১৫০ মার্কিন ডলার
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ১২৫ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ১৭৫ মার্কিন ডলার
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ১৫০ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ২০০ মার্কিন ডলার
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ১৭৫ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ২২৫ মার্কিন ডলার
বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশন হতে আবেদনের ক্ষেত্রে (শ্রমিক ও ছাত্র) :
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ৩০ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ৪৫ মার্কিন ডলার
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ৫০ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ৭৫ মার্কিন ডলার
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ১৫০ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ২০০ মার্কিন ডলার
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ সহ পাসপোর্ট
- নিয়মিত বিতরণ: ১৭৫ মার্কিন ডলার
- জরুরী বিতরণ: ২২৫ মার্কিন ডলার
ই পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন:
অনলাইন পাসপোর্ট ফরমপূরণ


অনলাইনে পাসপোর্ট ফরমটি পূরণ করা ই-পাসপোর্টের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ফরম পূরণ করতে সতর্কতার সাথে নির্দেশনা অনুসরণ করুন। অনলাইনে ফরম পূরণের জন্য প্রথমে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এর ওয়েবসাইটে যেতে হবে। এটি আপনার নাম, পিতা-মাতার নাম ইত্যাদি ব্যক্তিগত তথ্যাদির জন্য। নামগুলো শিক্ষাগত সার্টিফিকেট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে সমমত হতে হবে। যদি কোনও তথ্যে ভুল থাকে, তবে পাসপোর্টে সমস্যা হতে পারে। মেইল অ্যাড্রেস এবং মোবাইল নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত তথ্য সঠিকভাবে দিন। টাকা জমা দেওয়ার তারিখ এবং রিসিট নম্বর প্রদান করুন। পাসপোর্টের টাইপ হিসেবে “সাধারণ” বাছাই করুন। লাল স্টার মার্ক দেওয়া অংশগুলি অবশ্যই পূরণ করুন।
ডেলিভারি প্রকার সম্পর্কে এটি ৩০ দিনের জন্য “Regular” বা ১৫ দিনের জন্য “Express” বাছাই করুন। ফর্মটি সম্পূর্ণ পূরণ করার পর পুনরায় এটি পর্যালোচনা করুন, সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা হয়েছে কি না তা যাচাই করুন। সাবমিট করার পরে সফলভাবে, পূরণকৃত ফরমের ডাউনলোড লিঙ্ক পাবেন। ফর্মটি ডাউনলোড করে নিন এবং পিডিএফ কপি তা সেই ই-মেইল অ্যাড্রেসে প্রেরণ করা হয়েছে, সেখানে দেখুন।
অনলাইনে একাউন্ট খোলার পর আপনাকে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। সেটা সংরক্ষণ করুন
ফরম জমা এবং ছবি তোলা:
অনলাইনে ফর্ম পূরণের ১৫ দিনের মধ্যে ফর্মের প্রিন্ট কপি, সত্যায়িত ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদের সত্যায়িত ফটোকপি (সাথে অবশ্যই অরিজিনাল কপি সথে নিবেন, দেখতে চাইবে) এবং স্টুডেন্ট হিসেবে আবেদন করলে আইডি কার্ডের ফটোকপি পাসপোর্ট অফিসে নিয়ে যেতে হবে। পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় বা ছবি তোলার সময় সাদা পোশাক, সাদা টুপি এবং চোখে চশমা পরা যাবে না।
সকালের দিকে পাসপোর্ট অফিসে গেলে ভালো হয়। তখন লাইনে ভিড় কম থাকে সরাসরি মেইন গেইট দিয়ে মূল অফিসে ঢুকতে হবে।
আপনার ফর্ম সাথে নিয়ে সেখানে দায়িত্বরত সেনা সদস্যকে বলুন কোথা যেতে হবে। তিনি আপনাকে দেখিয়ে দিবে কোথায় ফর্ম সহ আপনাকে যেতে হবে।
আবেদনপত্রটির ভেরিফিকেশন যাচাই ও জমা দেওয়ার আগে দায়িত্বরত কর্মকর্তা আবেদনপত্রে সিলসহ স্বাক্ষর করবেন। এরপর আবেদনপত্রটি নির্দিষ্ট স্থানে জমা দিতে হবে। পাসপোর্ট অফিসেই বেশ কয়েকটি বুথ আছে, সেখানেই জমা দিতে হবে।
আবেদনপত্রটি জমা দেয়ার সময় পাসপোর্ট অফিসের দায়িত্বরত ব্যক্তি আপনার তথ্যগুলো কম্পিউটারে এন্ট্রি করে রাখবেন। এরপর তিনি আপনাকে একটি টোকেন দেবেন।
সে টোকেনসহ আবেদনপত্রটি নিয়ে ছবি তোলার জন্য আরেকজন কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য যেভাবে ছবি তোলা হয়েছিলো, এখানেও একইভাবে নির্দিষ্ট মাপের ছবি তোলা হবে। এছাড়াও দুই হাতের আঙুলের ছাপও দিতে হবে ইলেকট্রনিক মেশিনে। এরপর নেয়া হবে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর। তবে, ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর আবেদনপত্রের স্বাক্ষরের সাথে যেনো মিল থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এরপর নির্দিষ্ট রুমে গিয়ে সিরিয়াল আসলে ছবি তোলার জন্য ডাক পড়বে। ছবি, স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ প্রদানের পুর্বে একটি রশিদ প্রদান করা হয় যাতে পাসপোর্ট এ প্রদর্শিত সকল তথ্য দেওয়া থাকে।
উক্ত রশিদে আপনার তথ্য সঠিক আছে কিনা যাচাই করে নিন এবং কোন তথ্য ভুল থাকলে সংশ্লিস্ট অপারেটরকে জানিয়ে তাৎক্ষণিক সংশোধন করে নিতে পারবেন। উল্লেখ্য যে, পাসপোর্ট আবেদনকারীর ছবি, স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ প্রদানের পর মূল ডেলিভারী রশিদ প্রদান করা হয় এবং এরপর সংশোধনের আর কোন সুযোগ থাকে না। ছবি তোলার ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর কাজ শেষ হলে পাসপোর্ট রিসিভের একটা রিসিট দেয়া হবে। সেটা যত্ন করে রাখুন।
সাধারণত ফরম জমা নেয়া হয় প্রতিদিন সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১:৩০ মিনিট পর্যন্ত। আর পাসপোর্ট বিতরণ করা হয় সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সরকারি ছুটির দিন (শুক্র ও শনিবার) বাদ দিয়ে সপ্তাহের বাকি পাঁচ দিন খোলা থাকে।
ই পাসপোর্ট পুলিশ ভেরিফিকেশন:
ই পাসপোর্ট করার নিয়ম গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে পুলিশ ভেরিফিকেশন। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা ভেরিফিকেশনের জন্য ব্যক্তির বর্তমান ঠিকানা সঠিক ভাবে ইনপুট করতে হয়। জাতীয় পরিচয় পত্রের পেছনের অংশে থাকা ঠিকানা অনুসারে ঠিকানার তথ্য পূরণ করা উচিত।
ঠিকানা নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিচের পয়েন্ট গুলো খেয়াল রাখবেনঃ
- জেলার নাম
- থানার নাম
- গ্রামের নাম
- রোড নাম্বার
- পোস্ট অফিস
- পোস্ট কোড
প্রত্যেকটি তথ্য যচাই বাছাই করে সঠিক ভাবে দেয়ার চেষ্টা করবেন। বিশেষ করে ঠিকানার বিষয়টি একটু গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। কেননা আপনার দেয়া এই ঠিকানায় পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আপনার স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা একই হলে “Present Address same as Permanent” এটি নির্বাচন করে দিলে স্বয়ংক্রিয় ভাবে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানায় একই ঠিকানা বসে যাবে।
বর্তমান এবং স্থায়ী ঠিকানা ভিন্ন হলে আপনার ঠিকানা আলাদা ভাবে ইনপুট করে দিতে হবে। ঠিকানা দুটি ভিন্ন হলে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স বা থানা ভেরিফিকেশন উভয় ঠিকানায় হবে
ই পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম:

পাসপোর্ট পোর্টালের হোম পেজ থেকে ‘CHECK STATUS” টেবে যেতে হবে। তারপর Online Registration ID (OID) অথবা Application ID ও জন্ম তারিখ দিয়ে পাসপোর্টের বর্তমান স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন।
পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে তার আপডেট স্ট্যাটাস এখানে জানতে পারবে। পাসপোর্টের আবেদন কি আবস্তায় রয়েছে সে বিষয়েও ধারনা পাওয়া যায়।
ই-পাসপোর্ট সংগ্রহ:
এখন শুধু অপেক্ষার পালা। পুলিশ ভেরিফিকেশন বা ক্লিয়ারেন্সের জন্য আপনাকে থানায় ডাকা পাঠানো হতে পারে অথবা পুলিশ সদস্য আপনার এলাকায় গিয়ে যেতে পারে। পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে আপনার মোবাইলে SMS এর মাধ্যমে তা জানানো হবে।
ই-পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে আপনাকে আবার পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে, ডেলিভারি টোকেন দেখিয়ে আপনার পাসপোর্টটি সংগ্রহ করতে হবে।
দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরী:
বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ পাসপোর্ট তৈরীর জন্য দালালের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জ্ঞান নেওয়ার জন্য তাদের শরণাপন্ন হয়ে থাকে। তাদের মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হয়।দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরী করার সুবিধা হল যে, পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় আপনাকে পুলিশ ভেরিফিকেশন নিজে করতে হবে না। দালালরা সমস্ত কাজ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
আপনি যার মাধ্যমে পাসপোর্ট করবেন তা দালালের সাথে ডিল করে থাকেন। পাসপোর্ট অফিসে দালালের এক্সশ্রেনী লোকবল নিয়োগ থাকে যারা আপনার পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় কাজ করে দেয়।
দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করার জন্য আপনাকে শুধুমাত্র টাকা প্রদান করতে হবে এবং তারপর পাসপোর্ট অফিসে যাওয়া প্রয়োজন হবে। ইনিশিয়াল ইন্টারভিউ, বায়োমেট্রিকস, আইরিস স্ক্যান এবং ব্যক্তিগত স্বাক্ষর প্রদান করার মাধ্যমে পাসপোর্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
তবে, এই প্রক্রিয়া দ্বারা পাসপোর্ট করলে কিছু অসুবিধা ও বিদ্যমান হতে পারে, কেননা দালালরা কম্পিউটারিজড পাসপোর্ট এর জটিলতা সম্পর্কে আপনাকে পর্যাপ্ত তথ্য দেয় না। তারাও কমপক্ষে মূল্যায়ন না করে পাসপোর্ট বিতরণ করতে পারে।
তাই, দালালের মাধ্যমে পাসপোর্ট করার আগে সঠিক কাগজপত্র সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত এবং অবশ্যই পরিচিত এবং নিশ্চিত দালালের মাধ্যমে করা উত্তম।
ই পাসপোর্ট সম্পর্কিত FAQ
পাসপোর্টে আবেদনে ভুল হলে, নিম্নলিখিত কার্যক্রম করা উচিত:
- প্রথমে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংশোধন করার জন্য পাসপোর্ট কার্যালয়ে যান এবং ভুলটি ঠিক করার জন্য আবেদন করুন। –
- প্রস্তুত পাসপোর্টের জন্য প্রদানকৃত ফি পর্যন্ত অনুমোদিত হওয়ার আগে, আপনি আবেদন সংশোধন করতে পারেন। পেমেন্ট করা হয়ে গেলে, পেমেন্ট ফেরতের সুযোগ নেই।
- – আবেদন সংশোধন না করলে, আপনি পাসপোর্ট আবেদন বাতিল করে নতুন পাসপোর্ট আবেদন করতে পারেন। এই সংশোধনের মাধ্যমে, আপনি সঠিক তথ্য সরবরাহ করার মাধ্যমে পাসপোর্ট আবেদনের ভুল দূর করতে পারেন।
